Chakulia News Desk: দেশের অসংগঠিত ক্ষেত্রের কোটি কোটি শ্রমিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে কেন্দ্র সরকার চালু করেছে ই-শ্রম (e-Shram Card Benefits 2026) কার্ড একটি উপযোগী প্রকল্প। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই কার্ডের গুরুত্ব ক্রমশ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী, হকার, পরিযায়ী শ্রমিক এবং স্বনিযুক্ত কর্মীদের জন্য এই কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করছে। আপনি যদি এই শ্রেণীভুক্ত হন তাহলে এই প্রতিবেদনটি অবশ্যই গুরুত্বসহকারে পড়ুন।প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে যে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের উদ্যোগে চালু হয় ই-শ্রম পোর্টাল। এই পোর্টালের মাধ্যমে অসংগঠিত শ্রমিকদের একটি জাতীয় তথ্য ভান্ডার তৈরি করা হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে শ্রমিকরা একটি ১২ সংখ্যার ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN) এবং ডিজিটাল ই-শ্রম কার্ড পান।বর্তমানে সরকার বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সঠিক উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করছে। তাই এখনও যদি আপনার ই-শ্রম কার্ড না থাকে, তাহলে আজই জেনে নিন কারা আবেদন করতে পারবেন, কী কী সুবিধা পাওয়া যায় এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে।
প্রথমেই জেনে নিন ই-শ্রম কার্ড (e-Shram Card) কী?
ই-শ্রম কার্ড হল কেন্দ্র সরকারের একটি বিশেষ পরিচয়পত্র, যা দেশের অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের তথ্য কেন্দ্রীয় তথ্য ভান্ডারে সংরক্ষিত হয় এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রদান সহজ হয়। ই-শ্রম কার্ডধারীরা একটি ইউনিক UAN নম্বর পান। এই নম্বরের মাধ্যমে শ্রমিকদের পরিচয় যাচাই করা যায় এবং বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
এবার জেনে নিন কারা ই-শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন?
| বয়সসীমা | আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ১৬ বছর থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। |
| শ্রমিকরা ই-শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন | কৃষি শ্রমিক নির্মাণ শ্রমিক গৃহকর্মী রিকশা ও ভ্যান চালক রাস্তার হকার মাছ ধরা ও মৎস্যজীবী শ্রমিক স্বনিযুক্ত শ্রমিক পরিযায়ী শ্রমিক ডেলিভারি বয় গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মী বাড়িভিত্তিক কর্মী দৈনিক মজুরির শ্রমিক |
| যাঁরা আবেদন করতে পারবেন না | EPFO সদস্য ESIC সদস্য NPS সদস্য আয়করদাতা ব্যক্তি |

আপনি কি জানেন ই-শ্রম কার্ডের প্রধান সুবিধাগুলি (e-Shram Card Benefits) কী কী?
| দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হলে ২ লক্ষ টাকা |
| সম্পূর্ণ অক্ষম হলে ২ লক্ষ টাকা |
| আংশিক অক্ষম হলে ১ লক্ষ টাকা |
| সরকার প্রথম বছরের প্রিমিয়াম বহন করে। |
| পেনশনের সুবিধা | ই-শ্রম কার্ডধারীরা চাইলে প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন (PM-SYM) প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে পারেন।এই প্রকল্পে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা করলে ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পেনশন পাওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রকল্পে শ্রমিক এবং সরকার উভয়েই সমান পরিমাণ অর্থ জমা দেয়। |
| স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ | যোগ্য উপভোক্তারা আয়ুষ্মান ভারত (PM-JAY) প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।এর মাধ্যমে গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিৎসার আর্থিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব। |
| চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ | ই-শ্রম ডাটাবেস বর্তমানে National Career Service (NCS) এবং Skill India Digital-এর সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে শ্রমিকরা নতুন চাকরি, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য পেতে পারেন। |
| পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা | অনেক শ্রমিক কাজের জন্য এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যান।ই-শ্রম কার্ডের সুবিধা সারা দেশে কার্যকর হওয়ায় পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। |
| জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা | করোনা মহামারীর সময় যেমন বিভিন্ন শ্রমিককে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তেমন ভবিষ্যতের জরুরি পরিস্থিতিতেও সরকার ই-শ্রম ডাটাবেস ব্যবহার করে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দিতে পারে। |
| একাধিক সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে সংযোগ | PM-KISAN PMAY-G ONORC PMSVANidhi MGNREGS Skill Development Programmes |
| ই-শ্রম কার্ডের জন্য যোগ্য নন | EPFO সদস্য ESIC সদস্য NPS সদস্য আয়করদাতা ব্যক্তি |
ই-শ্রম কার্ড করতে কী কী নথি লাগবে?
আধার কার্ড
আধার-লিঙ্কযুক্ত মোবাইল নম্বর
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর
IFSC কোড
অতিরিক্ত নথি
প্যান কার্ড
ভোটার কার্ড
ড্রাইভিং লাইসেন্স
পাসপোর্ট
যদিও এগুলি সবক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়।
অনলাইনে আবেদন করার পদ্ধতি
| ধাপ ১: ই-শ্রম পোর্টালে যান। |
| ধাপ ২: “Register on e-Shram” অপশনে ক্লিক করুন। |
| ধাপ ৩: আধার-লিঙ্ক মোবাইল নম্বর দিন। |
| ধাপ ৪: OTP যাচাই করুন। |
| ধাপ ৫: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন। |
| ধাপ ৬: ব্যাঙ্কের তথ্য দিন। |
| ধাপ ৭: আবেদন জমা দিন। |
| ধাপ ৮: UAN নম্বরসহ ই-শ্রম কার্ড ডাউনলোড করুন। |
FAQs
ই-শ্রম কার্ড কী?
অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্র সরকারের একটি জাতীয় পরিচয়পত্র।
ই-শ্রম কার্ডের জন্য বয়সসীমা কত?
১৬ থেকে ৫৯ বছর।
ই-শ্রম কার্ড করতে কি কোনও টাকা লাগে?
না, আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
ই-শ্রম কার্ডে কি পেনশন পাওয়া যায়?
PM-SYM প্রকল্পে যুক্ত হলে ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পেনশন পাওয়া যায়।
EPFO সদস্যরা কি ই-শ্রম কার্ড করতে পারবেন?
না, সাধারণত EPFO সদস্যরা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন।