Chakulia Newsdesk: Tata Safari ভারতের জনপ্রিয় SUV গুলির মধ্যে অন্যতম। দীর্ঘ ভ্রমণ, আরামদায়ক কেবিন এবং শক্তিশালী ডিজেল ইঞ্জিনের জন্য এই গাড়ির আলাদা পরিচিতি রয়েছে। সম্প্রতি এক Tata Safari মালিক নিজের গাড়ির দুই বছরের মালিকানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। এই সময়ে তাঁর Safari প্রায় ৩০,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। যা কথায় অসাধারণ।ওই গাড়িটির মালিক জানান, Safari কেনার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁর পুরনো Tata Vista-র উপর দীর্ঘ রাস্তা বা যাত্রা পথের চাপ কমানো। সেই লক্ষ্য অনেকটাই সফল হয়েছে। গত দুই বছরে Safari নিয়ে তিনি একাধিক লং ড্রাইভ এবং হাইওয়ে ট্রিপ সম্পন্ন করেছেন।
এবারে জেনে নিন কেমন ছিল দুই বছরের অভিজ্ঞতা?
মালিকের কথায়, সামগ্রিক অভিজ্ঞতা ছিল “দারুণ”। প্রথম বছরে সাসপেনশনের একটি ত্রুটি ধরা পড়লেও তা সম্পূর্ণভাবে ওয়ারেন্টির আওতায় ঠিক করে দেয় Tata Motors। এরপর দ্বিতীয় বছরে কোনও বড় ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা বা ইলেকট্রনিক ত্রুটি দেখা যায়নি।নিয়মিত সার্ভিসিং ছাড়া গাড়িকে সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যেতে হয়নি। শুধুমাত্র একবার কোম্পানির পক্ষ থেকে ব্রেক ফ্লুইড পরিবর্তনের জন্য রিকল ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে হয়েছিল।

এবার জেনে নিন সার্ভিসিং খরচ কত?
Tata Safari-র ক্ষেত্রে প্রতি ৬ মাস বা ৭,৫০০ কিলোমিটার অন্তর সার্ভিসের সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে একটি মাইনর সার্ভিস এবং একটি মেজর সার্ভিস থাকে।অক্টোবর মাসে করা মাইনর সার্ভিসে DEF (Diesel Exhaust Fluid) রিফিল সহ মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ১,৮০৬ টাকা।অন্যদিকে প্রথম পেইড মেজর সার্ভিসে খরচ হয়েছে প্রায় ১৬,২৭৭ টাকা। মালিকের মতে, এই খরচ কিছুটা বেশি মনে হলেও বড় SUV হিসেবে Safari-র রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক বলেই ধরা যেতে পারে।
আপনি কি জানেন লং ড্রাইভে কেমন পারফরম্যান্স?
মালিকের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে কলকাতা থেকে চেন্নাই পর্যন্ত প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ সড়ক যাত্রা। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি Tata Safari চালিয়ে এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেন।তাঁর মতে, হাইওয়েতে Safari অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং আরামদায়ক। দীর্ঘ সময় ধরে ড্রাইভ করলেও ক্লান্তি তুলনামূলক কম অনুভূত হয়। শক্তিশালী ডিজেল ইঞ্জিন এবং আরামদায়ক সিটিং পজিশন দীর্ঘ ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
দুই বছরে ৩০,০০০ কিলোমিটার পথ চলার পরও গাড়িটি কোনও বড় সমস্যা ছাড়াই চলছে। মালিকের মতে, “ফিল ইট, শাট ইট, ফরগেট ইট” ধরনের নির্ভরযোগ্য অভিজ্ঞতা দিচ্ছে Tata Safari। অর্থাৎ, জ্বালানি ভরুন, গাড়ি স্টার্ট করুন এবং নিশ্চিন্তে যাত্রা উপভোগ করুন।
দুই বছরের মালিকানা অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, Tata Safari দীর্ঘ ভ্রমণপ্রেমী এবং পরিবার-কেন্দ্রিক ক্রেতাদের জন্য একটি শক্তিশালী বিকল্প। যদিও সার্ভিসিং খরচ কিছুটা বেশি, তবে আরাম, পারফরম্যান্স এবং নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে SUVটি মালিকের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
FAQS
দুই বছরে গাড়িতে কি কোনও বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে?
না। প্রথম দিকে সাসপেনশনের একটি সমস্যা ওয়ারেন্টির আওতায় ঠিক করা হয়েছিল। এরপর কোনও বড় যান্ত্রিক বা ইলেকট্রনিক সমস্যা দেখা যায়নি।
Tata Safari-র প্রথম পেইড সার্ভিসে কত খরচ হয়েছে?
প্রথম মেজর পেইড সার্ভিসে প্রায় ১৬,২৭৭ টাকা খরচ হয়েছে।
লং ড্রাইভের জন্য Tata Safari কেমন?
দীর্ঘ যাত্রার জন্য Safari অত্যন্ত আরামদায়ক। হাইওয়েতে স্থিতিশীলতা ও সিট কমফোর্টের কারণে দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্তি কম হয়।
Tata Safari কি পরিবারের জন্য উপযুক্ত?
হ্যাঁ। বড় কেবিন, আরামদায়ক সিট এবং দীর্ঘ যাত্রায় ভালো পারফরম্যান্সের কারণে এটি পরিবার-কেন্দ্রিক ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়।