আমন ধান চাষ পদ্ধতি 2026: আপনি কি একজন কৃষক? আপনি কি আপনার জমিতে ধান চাষ করেন? আপনি কি আসন্ন আমন ধান চাষ করতে চলেছেন? তাহলে এই প্রতিবেদনটির সম্পূর্ণ পড়ুন কেননা এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করতে চলেছি কিভাবে আধুনিক পদ্ধতি মেনে আপনি আমন ধান চাষ করবেন।
বাঙালির প্রধান খাদ্য মাছ ভাত। ভাত আসে ধান থেকেই আর এই ধান বাংলার প্রধান ফসল। আমন ধান চাষে বর্ষার জলের উপর নির্ভর করে চাষ করতে হয় এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা থাকলে লাভজনক পদ্ধতি মেনে আমন ধান চাষ সম্ভব। এজন্য বীজতলা তৈরি করতে হয় জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে। এরপর চূড়ান্ত ধাপে অর্থাৎ ধান কাটতে হয় নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে যখন ধান পেকে যায়।
আমন ধান চাষের জন্য তাপমাত্রা দরকার কুড়ি থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রয়োজন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি। এজন্য মাটি দরকার দোআঁশ মাটি অথবা এটেল দোআঁশ মাটি। যেসব জমিতে জল ধারণ ক্ষমতা সবচাইতে ভালো সেই সমস্ত জমি আমন ধান চাষের জন্য আদর্শ। জুন থেকে জুলাই মাসে অনেকে বীজতলা তৈরি করলেও বর্তমান সময়কালে মে থেকে জুন মাসের মধ্যেই সর্বাধিক কৃষক বীজতলা তৈরি করেন।
বীজতলা তৈরি করার পূর্বে যে বিষয়টি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ তা হল হাইব্রিড বা উচ্চ ক্ষরণশীল বীজ নির্বাচন। উচ্চ ফলনশীল সম্পন্ন ধান বীজের উদাহরণ হল-স্বর্ণ, আইআর ৩৬, এম টি ইউ ৭০২৯। এছাড়া বাজারে প্রচুর পরিমাণে উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ পাওয়া যায়। মনে রাখবেন যে ধানের ট্রাক রেকর্ড ভালো রয়েছে সে একমাত্র সে সমস্ত ধানের বীজ কিনতে পারেন।
উঁচু জায়গায় বীজতলা তৈরি করা সবচাইতে ভালো এতে জল জমে না। কুড়ি থেকে ২৫ দিন সময় লাগে চারা তৈরি হতে। এরপরেই জমি প্রস্তুত করতে হয়। ধানের চারা খুব ঘন লাগালে ফলন কমে যায়। এজন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে কুড়ি বাই 15 সেন্টিমিটার দূরত্ব মেনে লাগালে ফলন সবচাইতে ভালো পাওয়া যায়।
সার হিসেবে জৈব সার বা কম্পোস্ট সারের কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে এক থেকে ২ টন প্রতি বিঘায় দিতে পারেন। রাসায়নিক সার হিসেবে বিভিন্ন সময় প্রয়োজন অনুসারী ইউরিয়া ডিএপি অথবা এসএসপি দিতে পারেন। মনে রাখবেন সার দিতে হবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে।
আগাছা নিয়ন্ত্রণের জন্য চারা লাগানোর কুড়ি থেকে 25 দিনের মধ্যে প্রথম নিড়ানি দেবেন। পরবর্তী ধাপে ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর দ্বিতীয় নিরানি দিতে হবে। মনে রাখবেন জমিতে আগাছা থাকলে ফলন কমবে। অভিজ্ঞরা মনে করেন জমিতে আগাছা থাকলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ফলন কমতে পারে।