Vendi Chas 2026 Process: যারা সবজি চাষ করেন তারা সবসময় চেষ্টা করেন লাভজনক উপায়ে বেশি লাভ করতে। এই অবস্থায় এই সময়কালে সবচাইতে প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকতে পারে ঢেঁড়স চাষ। ঢেঁড়সকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। কোথাও ঢেঁড়স কে ভেন্ডি হিসেবে ডাকা হয়। যাইহোক এই প্রতিবেদনে আলোচনা করব কিভাবে একজন সাধারন চাষী তার এক বিঘা জমিতে ঢেঁড়স চাষ করে কুড়ি থেকে ত্রিশ হাজার টাকা রোজগার করবেন বা লাভ করবেন।
যে কোন চাষের প্রাথমিক প্রস্তুতি হলো পরিকল্পনা। কোন চাষী ততটাই সফল যতটা তার পরিকল্পনা ভালো। একই সঙ্গে আবহাওয়া ও বিভিন্ন বিষয়ে যেমন কীটনাশক বীজের ধরন সবকিছু সম্পর্কে ভালো ধারণা। সব মিলিয়ে এসবই ফসলের মান ও ফলনের পরিমাণ দুই বৃদ্ধি করে।
মনে করা যাক কোন চাষীর এক বিঘা জমি যা শূন্য দশমিক ৩৩ একর বিশিষ্ট। এবার ওই চাষী এই জমি চাষ করে কিভাবে ভেন্ডি চাষের মাধ্যমে বা ঢেঁড়স চাষের মাধ্যমে কুড়ি থেকে ত্রিশ হাজার টাকা রোজগার করবেন। বিস্তারিত জানার জন্য এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মন দিয়ে পড়ুন।
প্রথমত জমির চাষ বিষয়টিতে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। ভালোভাবে চাষ করতে হবে। গোবর সার দিলে সবচাইতে ভালো হয়। এরপর মরশুম অনুসারে বীজের ধরন বিষয়টিতে জোর দিতে হবে। বীজ অবশ্যই হাইব্রিড বা উচ্চ ফলনশীল নিতে হবে। মরশুম অনুসারে কয়েকটি উচ্চ ফলনশীল বীজের উদাহরণ হল-অর্ক অনামিকা পুসা সায়নী হাইব্রিড গ্লোবাল ইত্যাদি। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে এই তিন ধরনের প্রজাতি গ্রীষ্মকালীন সময় অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ এবং বর্ষাকালীন সময় অর্থাৎ জুন থেকে জুলাই দুই ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধ কারি বীজ নিলে চাষি খুব সহজেই লাভবান হতে পারবেন।
এবার জেনে নিন কিভাবে জমি প্রস্তুত করবেন? প্রস্তুত করার জন্য জমিতে ২ থেকে ৩ বার অন্তত চাষ দিতে হবে। জমিতে পরিমাণমতো জৈব সার অর্থাৎ গোবর অথবা কম্পোস্ট সার মিশিয়ে প্রয়োগ করবেন। বপন করার সময় এক লাইন থেকে অফলাইনের দূরত্ব যেন অন্তত ৪৫ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার হয়। ঢেঁড়সের বীজ দিতে হবে জমির দুই থেকে তিন সেন্টিমিটার গভীরে। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে জমিতে যদি জলা ভাব বা রস থাকে ক্ষেত্রে বপনের পূর্বে বীজ ভেজানোর প্রয়োজন নেই। যদি জমির মাটি শুষ্ক হয় এক্ষেত্রে বার ঘন্টা জলে ভিজিয়ে নিলে অঙ্কুরোদগম খুব ভালো হবে।।
গ্রীষ্মকালে এর চাষ করলে সেচের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। গরমে নির্দিষ্ট সময় অন্তর একটু বুঝে শুনে সেচ দিতে হবে। মনে রাখবেন জমি এমনভাবে তৈরি করবেন যাতে জল না জমতে পারে। যে সমস্ত সার জমিতে দিতে হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো জৈব সার যেমন গোবর বা কম্পোস্ট। এছাড়া রাসায়নিক সারের মধ্যে নাইট্রোজেন ফসফরাস এবং পটাশিয়ামের উপর বেশি গুরুত্ব দেবেন।
এবার এক নজরে জেনে নিন রোগ এবং পোকা নিয়ন্ত্রণে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন? ঢেঁড়স বা ভেন্ডি চাষের সবচাইতে উপদ্রখারী পোকার নাম হচ্ছে জ্যাসিড বা পাতা পোকা। এর পরেই আসে ফল ছিদ্রকারী পোকার কথা। এছাড়াও পাউডারী মিল্ড ইউ নামে এক ধরনের পোকা ঢেঁড়স গাছকে আক্রমণ করে। এসবের জন্য নিম তেল অবশ্যই প্রয়োগ করবেন। প্রয়োজনে স্থানীয় কৃষি অধিকতার অফিসে যোগাযোগ করে নিম তেল চেয়ে নেবেন না পেলে সারের দোকানে যোগাযোগ করবেন। সবচাইতে উল্লেখযোগ্য কথা পাকাপোক্ত চাষীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল নিয়মিত গাছ পর্যবেক্ষণ করা। নতুন চাষী হলে অবশ্যই গাছ পর্যবেক্ষণ করবেন পারলে পুরাতন চাষীদের পরামর্শ নিতে পারেন।
এবার এক নজরে দেখে নিন কিভাবে আগাছা নিয়ন্ত্রণ করবেন? ১৫ থেকে ২০ দিনও অন্তরের অন্তর আগাছা পরিষ্কার করবেন। এছাড়া বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে মাটি আলগা করলে ভালো হয় এতে মাটির ভিতরে পরিমাণ মতো হাওয়া বাতাস চলার সুযোগ পায়, মাটির উর্বরতা বাড়ে
ঢেঁড়স চাষকে লাভজনক করে তুলতে চাইলে তিনটি জিনিস সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এগুলি হল উচ্চফলনশীল বীজের ব্যবহার। বাজারের কোন সময় দাম বেশি থাকে সেই ভাবে যেদিন চাষবাস শুরু করেন তাহলে সবচাইতে বেশি পরিমাণে লাভের মুখ দেখবেন।
যে সমস্ত চাষিরা সমস্ত ফসলেই লাভ করেন তাদের তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এদেরকেই বলা হয় স্মার্ট চাষী। বিদেশে একেই বলা হয় স্মার্ট ফার্মিং। যে কোন ফসল কয়েক দফায় চাষ করলে লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকে। পাইকার কে না দিয়ে নিজে যদি সরাসরি হাটে বিক্রি করেন সময় বেশি হলেও লাভের পরিমাণ অনেকটাই বেশি থাকে।