Vutta Chas Poddhoti 2026: হাইব্রিড ভুট্টা চাষ এখন অনেকেই করছেন। উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসলের মধ্যে এখন একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে ভুট্টা। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর দিনাজপুর ভুট্টা চাষে প্রথম স্থান অধিকার করে। ভুট্টা তোলার পর জাতীয় সড়ক জুড়ে ভুট্টা সহ ভিন্ন ধরনের যানবাহন চোখে পড়ে। যাইহোক এই প্রতিবেদনে আলোচনা করব কিভাবে হাইব্রিড ভুট্টা চাষ করলে ফলন সবচাইতে ভালো পাওয়া যায়?
ভারতবর্ষে ভুট্টা চাষ জলবায়ু বা আবহাওয়া অনুযায়ী তিনটি সময় করা যেতে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশে ভুট্টা চাষ মূলত রবি শস্য হিসেবেই গ্রহণ করা হয়। এর কত লাভ রয়েছে ।অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে ভুট্টা চাষ শুরু করলে অন্যান্য মৌসুমের চাইতে বেশি ফলন পাওয়া যায়। একই সঙ্গে রবিশস্য হিসেবে শুরু করলে পোকামাকড় থেকে শুরু করে অন্যান্য ক্ষতিকারক দিকগুলি সহজেই উপেক্ষা করা যেতে পারে।
রবি মৌসুমে ভুট্টা চাষ শুরু করলে পরবর্তী সময়ে কুড়ি থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা ভুট্টা গাছ পেয়ে যায় যা তার বৃদ্ধি এবং ভালো গঠনের জন্য সবচাইতে কার্যকরী এবং সহায়ক। অন্যদিকে অতিরিক্ত গরম গাছের পক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না এর ফলে গাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এছাড়া এই সময়ে চাষ করলে অতিরিক্ত ঠান্ডা থাকে না এর ফলে অঙ্কুরোদগম ভালোভাবে হয়।
এই সময় যেহেতু বৃষ্টি কম থাকে তাই রোগের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। এরফলে ভুট্টা চাষের খরচ অনেকটাই কমে যায় এতে লাভবান হন কৃষক। কিন্তু খরিফ মরশুমে ভুট্টা চাষ করলে ছত্রাক জনিত সমস্যা শিকড় পচা প্রভৃতি ধরনের রোগ গুলো দেখা যায়।
রবি মৌসুমে চাষ করলে কৃষক নিজের ইচ্ছে মতো জমিতে জল সেচ দিতে পারেন। রবি মৌসুমে চাষ শুরু করলে আবহাওয়া স্থির থাকে এর ফলে দানা বড় হয়ে যায় এবং ওজন বৃদ্ধি পায় এর ফলে ফসল বিক্রি করে কৃষক লাভবান হন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন অন্যান্য মরসুমের তুলনায় রবি মৌসুমে যে সমস্ত চাষী ভুট্টা চাষ করেন তারা কুড়ি থেকে ত্রিশ শতাংশ বেশি ফলন পান।
তবে এই মরশুমে সেচের ব্যবস্থা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টি না হলে সেচ অবশ্যই দরকার এবং সেটাও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট দিন অন্তর এবং ভুট্টা গাছের দাবি মেনে। অভিজ্ঞ কৃষকেরা অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ভুট্টা চাষ শুরু করেন। এক্ষেত্রে তারা উচ্চ ফলনশীল বীজ বা হাইব্রিড বীজ ব্যবহার করেন। বিভিন্ন সময় সঠিক পরিমাণে সঠিক সার প্রয়োগ করেন।
ভালো চাষিরা বা অভিজ্ঞ চাষীরা যে সমস্ত ভুল করেন না সেগুলি হল বেশি ঘন করে ভুট্টা বীজ বপন করেন না। জমিতে জল জমতে দেন না। স্মার্ট চাষিরা সরাসরি বিভিন্ন হাট বা পোল্ট্রি ফির দোকানে ভুট্টা বিক্রি করেন এর ফলে লাভ বেশি হয়। এছাড়া ভুট্টা বাড়িতে আসার পর কিছুদিন রেখে দিলে দাম বৃদ্ধির একটা সম্ভাবনা থাকে। তবে সবটাই নির্ভর করে বাজারের দামের উপরে।