কলা খাওয়ার উপকারিতা: বিভিন্ন বাড়িতে অন্য কোন ফল থাকুক না থাকুক কলা থেকেই যায়। অনেকেই সকালের খাবারে কলা খেতে ভালোবাসেন বা খান। অনেকেই ভালোভাবে জানেন যে গলায় রয়েছে অসামান্য পুষ্টিগুণ, এতে যেমন রয়েছে ফাইবার ভিটামিন ছাড়াও বিভিন্ন খনিজ পদার্থ এছাড়া এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম। জানা গেছে যে একটি কলা থেকে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম আমরা পেয়ে থাকি। এই পটাশিয়াম আমাদের হৃদপিণ্ড বা হৃদ যন্ত্র ভালো রাখতে প্রচুর সাহায্য করে। অর্থাৎ বলা ভালো হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি যদি কমাতে চান এক্ষেত্রে কলা খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। তবে অভিজ্ঞরা মনে করেন সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং সময় মেনে কলা খেলে শরীর এর উপকার হয়। কলা খেতে গেলে কতগুলো বিশেষ নিয়ম মাথায় রাখা খুবই প্রয়োজন।
১) যেহেতু কলায় পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে এগুলি শরীরের জন্য যথেষ্ট উপকারী। এছাড়া যথেষ্ট পরিমাণ ফাইবার থাকার ফলে শরীর সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। তবে খালি পেটে যদি কেউ কলা খান সেক্ষেত্রে অপকারের সম্ভাবনা বেশি। কলায় চিনির পরিমাণ থাকে প্রচুর অনেকক্ষণ উপস থাকার পর কলা খেলে রক্তের শর্করার মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। এরফলে অনেকের ডায়াবেটিস হতে পারে। আবার কলা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেক কমায় কেননা এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার।

পুষ্টিবিদদের একাংশ মনে করেন সকালে কলা খেতে পারেন তবে সেটা খালি পেটে নয়। প্রথমেই কিছু খেয়ে তারপর কলা খেতে পারলে ভালো। তবে খালি পেটে কলা খেলে এসিড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া খালি পেটে খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এবং এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে আমাদের হৃদপিণ্ডে।
২) কলা খাওয়ার আগে সবার আগে দেখা উচিত কলা কতটা পাকা। পুষ্টিবিদদের একাংশের মতে খুব বেশি পাকা কলা খাওয়া খুব একটা ভালো নয়। কেননা বেশি পাকা কলা মিষ্টি যেমন বেশি ঠিক তেমনি চিনিতে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই পাকা কলা রক্তের শর্করার পরিমাণ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। এরফলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া কলা বেশি পেকে গেলে এর মধ্যে ছত্রাক জন্ম নেয় যা পেটের হজমে বাধা সৃষ্টি করে।
তাই কলার উপকারিতা রয়েছে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খাওয়ার মধ্য দিয়ে। অতিরিক্ত পাকা কলায় যেমন ছত্রাক থাকে, আবার খালি পেটে কলা খাওয়া ভালো না।