Chakulia Newsdesk: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও মনে অনেক পরিবর্তন আসে। তবে সঠিক যত্ন ও সচেতনতার মাধ্যমে বয়স্করা সুস্থ ও সক্রিয় জীবন কাটাতে পারেন। বার্ধক্য জনিত রোগ থেকে দূরে থাকা সম্পূর্ণ অসম্ভব নয়, বরং অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণযোগ্য অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। এই প্রতিবেদনে বার্ধক্যের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য রোগ এবং প্রতিরোধের বাস্তবসম্মত উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বার্ধক্য অর্থ কি?
বার্ধক্য বলতে সাধারণত জীবনের সেই পর্যায়কে বোঝানো হয় যখন মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি কোনো রোগ নয়, বরং জীবনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সাধারণত ৬০ বছরের পর থেকে এই পর্যায় শুরু হয় বলে ধরা হয়। তবে বার্ধক্যের গতি প্রত্যেকের ক্ষেত্রে এক নয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ভালো খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে অনেকে ৭০-৮০ বছর বয়সেও সক্রিয় ও সুস্থ থাকেন। বার্ধক্য অর্থ কি তা বুঝলে আমরা এর সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারি এবং অপ্রয়োজনীয় ভয় কমাতে পারি।
বার্ধক্য জনিত রোগ কি?
বার্ধক্য জনিত রোগ বলতে এমন সব সমস্যাকে বোঝায় যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বেশি হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রোগ হল:
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ
ডায়াবেটিস
আর্থ্রাইটিস ও অস্টিওপোরোসিস (হাড়ের ক্ষয়)
চোখের ছানি, গ্লুকোমা
স্মৃতিভ্রংশ (ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার)
শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা
ক্যান্সারের কিছু ধরন

এসব রোগের কারণে জীবনের মান কমে যায় এবং কখনো কখনো জটিলতা দেখা দেয়। বার্ধক্য জনিত কারণে মৃত্যু অনেক ক্ষেত্রে এই রোগগুলোর জটিলতা থেকেই হয়। তবে সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
এবার জেনে নিন বয়স্কদের বার্ধক্য জনিত রোগ প্রতিরোধের উপায়
বয়স্করা সুস্থ থাকতে চাইলে কয়েকটি মূল অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। প্রথমেই নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম। প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা যোগাসন বা চেয়ারে বসে ব্যায়াম করা হৃদয় ও হাড়কে মজবুত রাখে।খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খান। চিনি, লবণ ও তেলের পরিমাণ কমিয়ে দিন। ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হাড় ও মাংসপেশিকে শক্তিশালী রাখে।
মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক যোগাযোগ
বার্ধক্য জনিত রোগ শুধু শরীরে নয়, মনেও প্রভাব ফেলে। নিয়মিত বই পড়া, ধাঁধা সমাধান, নতুন কিছু শেখা বা গান শোনা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। পরিবার ও সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা একাকিত্ব দূর করে এবং মানসিক চাপ কমায়।প্রতি ছয় মাস অন্তর ডাক্তারের কাছে গিয়ে রক্তচাপ, চিনি, কোলেস্টেরল ও হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করান। প্রাথমিক অবস্থায় সমস্যা ধরা পড়লে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। টিকা (যেমন ফ্লু, নিউমোনিয়া) নেওয়াও জরুরি।জীবনযাপনের সহজ অভ্যাস
রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।
ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
ঘরের পরিবেশ নিরাপদ করুন যাতে পড়ে না যান।
সূর্যের আলোয় কিছু সময় কাটান (ভিটামিন ডি-এর জন্য)।
বার্ধক্য জনিত কারণে মৃত্যু এড়ানোর পথ আছে কি?
বার্ধক্য জনিত কারণে মৃত্যু প্রায়শই হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসের জটিলতা বা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে হয়। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। অনেক বয়স্ক মানুষ সক্রিয় জীবন কাটিয়ে ৯০ বছরেরও বেশি বয়স পর্যন্ত সুস্থ থাকেন।পরিবারের সদস্যদের উচিত বয়স্কদের যত্ন নেওয়া, তাদের কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করা। সমাজ ও সরকারি স্তরে বয়স্কদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা কর্মসূচি আরও জোরদার করা দরকার।
বার্ধক্য জীবনের অবশ্যম্ভাবী অংশ, কিন্তু এটিকে যন্ত্রণাদায়ক করে তোলার দরকার নেই। সঠিক খাদ্য, ব্যায়াম, মানসিক সক্রিয়তা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে বয়স্করা দীর্ঘদিন সুস্থ ও আনন্দময় জীবন উপভোগ করতে পারেন।প্রত্যেক পরিবারের উচিত বয়স্ক সদস্যদের প্রতি যত্নশীল হওয়া। আজ থেকেই ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করে শুরু করুন। সুস্থ বার্ধক্য মানেই সুখী পরিবার ও সমাজ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদন সাধারণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শ নয়। বয়স্ক ব্যক্তিদের যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। সুস্থ থাকুন, সবাইকে সুস্থ রাখুন।