চাকুলিয়া নিউজডেস্ক: সকলেই জানেন যে,উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় স্থান হল কানকি রাম মন্দির (Kanki Ram Mandir)। প্রতিবছর পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত এখানে(Kanki Mandir Dham) দর্শনে আসেন। জাতীয় সড়ক এবং রেলপথ-দুই দিক থেকেই মন্দিরে পৌঁছানো অত্যন্ত সহজ। কানকি এলাকাটি NH-27-এর পাশে অবস্থিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ খুবই উন্নত। একইসঙ্গে কানকি রেল স্টেশন (KKA) এবং কিশানগঞ্জ রেল স্টেশন (KNE) ব্যবহার করেও সহজে পৌঁছানো যায়। কানকি রেল স্টেশন হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি লাইনের গুরুত্বপূর্ণ শাখার অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে কিশানগঞ্জ স্টেশন উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে কলকাতার অন্যতম বড় রেল সংযোগ কেন্দ্র। দূরদূরান্তের যাত্রীদের জন্য এই দুটি স্টেশনই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি প্রথমবার কানকি রাম মন্দিরে আসার পরিকল্পনা করেন, তাহলে নিচের তথ্যগুলি আপনার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

জেনে নিন কলকাতা থেকে কানকি রাম মন্দিরে কীভাবে আসবেন?
কলকাতা থেকে কানকি রাম মন্দিরে আসার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হল রেলপথ। প্রতিদিন হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে উত্তরবঙ্গগামী একাধিক ট্রেন চলাচল করে। যাত্রীরা কিশানগঞ্জ স্টেশন অথবা কানকি স্টেশনে নেমে সহজেই মন্দিরে পৌঁছাতে পারেন। কিশানগঞ্জ স্টেশন থেকে কানকি রাম মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ১৪-১৫ কিলোমিটার। স্টেশন থেকে অটো, টোটো বা রিজার্ভ গাড়ি সহজেই পাওয়া যায়। যাত্রাপথে সময় লাগে সাধারণত ২০ থেকে ৩০ মিনিট। যারা লোকাল পরিবেশ উপভোগ করতে চান তারা কানকি স্টেশনেও নামতে পারেন। কানকি স্টেশন থেকে রাম মন্দির খুবই কাছে অবস্থিত। কলকাতা থেকে সড়কপথে আসতে চাইলে NH-12 হয়ে মালদা এবং সেখান থেকে NH-27 ধরে কানকি পৌঁছানো যায়। ব্যক্তিগত গাড়িতে যাত্রা করলে রাস্তার অবস্থা বেশ ভালো এবং পুরো যাত্রাপথটি মনোরম এবং সুন্দর।
জানুন, শিলিগুড়ি থেকে কানকি রাম মন্দিরে কীভাবে আসবেন?
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি থেকে কানকি রাম মন্দিরে পৌঁছানো অত্যন্ত সহজ। সড়কপথে শিলিগুড়ি থেকে কানকির দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। NH-27 ধরে সরাসরি বাস, গাড়ি অথবা ট্যাক্সিতে কানকি পৌঁছানো যায়। সাধারণত ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন শিলিগুড়ি থেকে কিশানগঞ্জ, ডালখোলা ও কানকির উদ্দেশ্যে একাধিক বাস চলাচল করে। রেলপথেও শিলিগুড়ি ও নিউ জলপাইগুড়ি থেকে কানকি স্টেশনের সংযোগ রয়েছে। কিছু DEMU এবং এক্সপ্রেস ট্রেন কানকি স্টেশনে থামে। যারা ট্রেনে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন তারা সরাসরি KKA অথবা কানকি স্টেশনে নেমে অল্প সময়ের মধ্যেই মন্দিরে পৌঁছাতে পারবেন। শিলিগুড়ি থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে এলে রাস্তার দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যাত্রাকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। পরিবার নিয়ে একদিনের ধর্মীয় ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্য।
এবার জেনে নিন কানকি রেল স্টেশন (KKA) থেকে রাম মন্দিরে পৌঁছানোর উপায়
কানকি রেল স্টেশন উত্তর দিনাজপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। এই স্টেশনটি কাটিহার-শিলিগুড়ি রেলপথের উপর অবস্থিত এবং এখানে নিয়মিত DEMU ও এক্সপ্রেস ট্রেন থামে।স্টেশন থেকে বেরিয়ে অটো বা টোটোতে খুব অল্প সময়েই রাম মন্দিরে পৌঁছানো যায়। অনেক ক্ষেত্রেই হাঁটাপথেও মন্দিরে যাওয়া সম্ভব। স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান রয়েছে। ভক্তদের সুবিধার জন্য স্থানীয় পরিবহন সহজলভ্য। উত্তরবঙ্গ বা বিহার থেকে আগত যাত্রীদের জন্য কানকি স্টেশন সবচেয়ে সুবিধাজনক বিকল্প হতে পারে। স্টেশন থেকে মন্দিরের দূরত্ব কম হওয়ায় বয়স্ক ভক্তদেরও যাতায়াতে বিশেষ অসুবিধা হয় না। ধর্মীয় পর্যটনের ক্ষেত্রে এই স্টেশনটির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ট্রেন কানকি স্টেশনে থামতে শুরু করেছে।
জেনে নিন কিভাবে কিশানগঞ্জ রেল স্টেশন (KNE) থেকে কানকি রাম মন্দিরে আসবেন?
কিশানগঞ্জ রেল স্টেশন বিহারের অন্যতম ব্যস্ত রেল স্টেশন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের দ্বার হিসেবে পরিচিত। কলকাতা, দিল্লি, গুয়াহাটি, পাটনা এবং দেশের বিভিন্ন শহর থেকে সরাসরি ট্রেন এখানে আসে। কানকি রাম মন্দিরে যাওয়ার জন্য বহু ভক্ত এই স্টেশন ব্যবহার করেন। কিশানগঞ্জ স্টেশন থেকে কানকির দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। স্টেশন চত্বর থেকে সারাদিন অটো, টোটো এবং ভাড়ার গাড়ি পাওয়া যায়। সাধারণত ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যেই মন্দিরে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। জাতীয় সড়কের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো। যারা দূরপাল্লার ট্রেনে ভ্রমণ করেন তাদের জন্য কিশানগঞ্জ স্টেশন সবচেয়ে সুবিধাজনক বিকল্প। স্টেশন থেকে কানকি যাওয়ার পথে বিভিন্ন বাজার ও জনবসতি পড়ে, ফলে যাত্রা নিরাপদ ও আরামদায়ক। বহু পর্যটক প্রথমে কিশানগঞ্জে নেমে সেখান থেকে কানকি রাম মন্দির দর্শন করেন।
জাতীয় সড়ক NH-27 ধরে কানকি রাম মন্দিরে যাত্রা
কানকি রাম মন্দিরের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এটি জাতীয় সড়ক NH-27-এর একেবারে কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে সড়কপথে সহজে পৌঁছানো যায়। প্রতিদিন অসংখ্য বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং পর্যটকবাহী যানবাহন এই পথ দিয়ে চলাচল করে। ডালখোলা, ইসলামপুর, কিশানগঞ্জ এবং শিলিগুড়ির সঙ্গে কানকির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। NH-27 ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম করিডরের অংশ। ফলে রাস্তার অবস্থা তুলনামূলকভাবে উন্নত। যাত্রাপথে খাবার ও বিশ্রামের জন্য একাধিক ধাবা এবং হোটেল পাওয়া যায়। পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের জন্য এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক। বিশেষ উৎসবের সময় ভক্তদের বড় অংশ সড়কপথেই কানকি রাম মন্দিরে পৌঁছান। ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশে এই জাতীয় সড়কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কানকি রাম মন্দির উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কলকাতা, শিলিগুড়ি, কিশানগঞ্জ কিংবা উত্তরবঙ্গের যেকোনও প্রান্ত থেকে এখানে পৌঁছানো সহজ। রেলপথে কানকি (KKA) এবং কিশানগঞ্জ (KNE) দুটি স্টেশনই ভক্তদের জন্য সুবিধাজনক। অন্যদিকে NH-27-এর কারণে সড়কপথেও যোগাযোগ অত্যন্ত উন্নত। মন্দির দর্শনের পাশাপাশি এলাকাটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ ভক্তদের আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে উৎসবের সময় এখানে বহু মানুষের সমাগম হয়। ভবিষ্যতে ধর্মীয় পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে কানকির গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। যারা এখনও কানকি রাম মন্দিরে আসেননি, তারা একবার এই পবিত্র স্থানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতেই পারেন। শান্ত পরিবেশ এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা এই স্থানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ভক্তদের জন্য এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।