Chakulia Newsdesk: হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ২০২৬,হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতি বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের কৃষকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি লাভজনক ফসল। হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে অনেক কৃষকরা স্থানীয় জাতের তুলনায় ৪০-৫০% বেশি ফলন পেয়ে থাকেন। হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতির প্রধান সুবিধা হলো এই জাত গুলো খরা সহনশীল, রোগ প্রতিরোধী এবং কম সময়ে বেশি উৎপাদন দিয়ে থাকে। হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতি সঠিকভাবে জানা থাকলে প্রতি বিঘা জমিতে ১২-১৫ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতিতে সঠিক বীজ নির্বাচন, জমি তৈরি, সার প্রয়োগ ও সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ফলন লাভ করা যায়। বর্তমানে হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করা কৃষকরা পাইওনিয়ার, বিএআরআই ও অন্যান্য উন্নত জাতের ভুট্টা চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন এবং মুনাফা পাচ্ছেন।
হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতি শুরু করার আগে জেনে নিন যে এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত ভুট্টার বাজারে চাহিদা অনেক বেশি। পোলট্রি ফিড, ফিশ ফিড ও বিস্কুট শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ভুট্টার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে চাষ করলে প্রতি হেক্টরে ৮-১০ টন ফলন আশা করা যায়। হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতির আরেকটি বড় সুবিধা হলো ফসল সংগ্রহের পর খড় গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করা যায়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী অঞ্চলে হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে।
ভুট্টা চাষ পদ্ধতি পিডিএফ – ডাউনলোডযোগ্য নির্দেশিকা
ভুট্টা চাষ পদ্ধতি পিডিএফ আকারে সংগ্রহ করে রাখা প্রতিটি কৃষকের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এতে চাষবাসের বিভিন্ন ধাপ গুলি সুস্পষ্টভাবে যেমন উল্লেখ থাকে ঠিক তেমনি সার সেচ সবকিছু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা করা যায়।ভুট্টা চাষ পদ্ধতি পিডিএফ এ বীজ থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকে। ভুট্টা চাষ পদ্ধতি পিডিএফ এর মাধ্যমে কৃষকরা অফলাইনে বা অনলাইনে সহজেই চাষাবাদের নিয়মকানুন বা নিয়মগুলি জানতে পারেন। ভুট্টা চাষ পদ্ধতি পিডিএফ তে জমি নির্বাচন, মাটির ধরন, পিএইচ মান, আবহাওয়া, বীজ বপনের সময়, সার প্রয়োগের পরিমাণ, সেচ ব্যবস্থাপনা, রোগ ও পোকামাকড় দমন এবং ফসল সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকে। ভুট্টা চাষ পদ্ধতি পিডিএফ এর মাধ্যমে কৃষকরা বর্ষাকালীন, শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা চাষের মধ্যে পার্থক্যও জানতে পারেন। কৃষক বন্ধুরা চাইলে আমাদের whatsapp চ্যানেলে যোগ দিতে পারেন লিংক নিচে দেওয়া রয়েছে। এখানে সেখানে ভুট্টা চাষের পিডিএফ দিয়ে দেওয়া হবে।
এছাড়া,ভুট্টা চাষ পদ্ধতি পিডিএফ সংগ্রহ করতে ভারতের কৃষকরা ICAR-Indian Institute of Maize Research এবং বাংলাদেশের কৃষকরা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) এর ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। ভুট্টা চাষ পদ্ধতি পিডিএফ এ হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের মধ্যে পার্থক্য, প্রতি হেক্টরে বীজের পরিমাণ, সার ও সারের প্রকারভেদ এবং লাভের হিসাব বিস্তারিত থাকে। ভুট্টা চাষ পদ্ধতি পিডিএফ এর তথ্য অনুযায়ী চাষ করলে ফলন ২০-৩০% বাড়ানো সম্ভব। ভুট্টা চাষ পদ্ধতি পিডিএফ এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিভিন্ন রোগ যেমন – পচা রোগ, পাতার দাগ, কান্ড পচা ও পোকামাকড় দমনের আধুনিক কৌশল। কৃষকরা ভুট্টা চাষ পদ্ধতি পিডিএফ ডাউনলোড করে মোবাইল বা কম্পিউটারে পিডিএফ আকারে সেভ বা সংরক্ষণ করে করে প্রয়োজনে দেখে নিতে পারেন।
এবার এক নজরে দেখে নিন পাইওনিয়ার ভুট্টা ৩৩৫৫ চাষ পদ্ধতি
পাইওনিয়ার ভুট্টা ৩৩৫৫ চাষ পদ্ধতি বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয়। পাইওনিয়ার ভুট্টা ৩৩৫৫ চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষকরা অল্প সময়ে বেশি ফলন পাচ্ছেন। পাইওনিয়ার ভুট্টা ৩৩৫৫ চাষ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এই জাতটি খরা ও রোগ প্রতিরোধী এবং মাত্র ১৪০-১৬০ দিনে পরিপক্ক হয়। পাইওনিয়ার ভুট্টা ৩৩৫৫ চাষ পদ্ধতিতে প্রতি হেক্টরে ১০-১২ টন ফলন সম্ভব যা অন্যান্য জাতের তুলনায় ৩০-৪০% বেশি। পাইওনিয়ার ভুট্টা ৩৩৫৫ চাষ পদ্ধতিতে বীজ বপনের সময় সঠিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে – সারি থেকে সারি ৬০-৭৫ সেমি এবং গাছ থেকে গাছ ২০-২৫ সেমি।

পাইওনিয়ার ভুট্টা ৩৩৫৫ চাষ পদ্ধতিতে সারের পরিমাণও ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন প্রতি হেক্টরে ২০০ কেজি ইউরিয়া, ১৫০ কেজি ডিএপি ও ১০০ কেজি এমওপি প্রয়োগ করতে হবে। পাইওনিয়ার ভুট্টা ৩৩৫৫ চাষ পদ্ধতিতে বীজ বপনের ২৫-৩০ দিনে, ৫৫-৬০ দিনে এবং ৭৫-৮০ দিনে বাধ্যতামূলকসেচ দিতে হবে তবে বৃষ্টি হলে পরিকল্পনায় পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। পাইওনিয়ার ভুট্টা ৩৩৫৫ চাষ পদ্ধতি অনুযায়ী ফসল সংগ্রহের সঠিক সময় হল শীষের খোসা হলুদ ও শুকিয়ে গেলে এবং দানা শক্ত হয়ে গেলে, এই লক্ষণ বা উপসর্গ দেখেই ভোটটা সংগ্রহ করতে পারেন কৃষক বন্ধুরা। পাইওনিয়ার ভুট্টা ৩৩৫৫ চাষ পদ্ধতিতে সাইলেজের জন্যও এই জাতটি খুবই উপযোগী কারণ গাছের উচ্চতা ৭-৮ ফুট হয় এবং কাণ্ড মোটা হয়। পাইওনিয়ার ভুট্টা ৩৩৫৫ চাষ পদ্ধতি সঠিকভাবে জানতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা বা পাইওনিয়ার কোম্পানির এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। যারা ফোন নম্বর চান তারা কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের তরফে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে কমেন্ট বক্সে উল্লেখ করে দেওয়া হবে।
ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতি : প্রতিটি ধাপ ধরে বিস্তারিত বিবরণ
ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ করলেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতির প্রথম ধাপ হল জমি ভালোভাবে তৈরি করা। এবার ৩-৪ বার চাষ ও মই দিয়ে জমি সমান করতে হবে। ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতিতে সারি পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকরী। ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতি অনুযায়ী সারি থেকে সারি দূরত্ব হবে ৬০-৭৫ সেমি এবং গাছ থেকে গাছ দূরত্ব ২০-২৫ সেমি। ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতিতে বীজ ৩-৪ সেমি গভীরতায় বপন করতে হবে। ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতির উপযুক্ত সময় – শীতকালীন ফসলের জন্য অক্টোবর-নভেম্বর, গ্রীষ্মকালীন ফসলের জন্য ফেব্রুয়ারি-মার্চ এবং বর্ষাকালীন ফসলের জন্য জুন-জুলাই।
ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতির আগে বীজ শোধন করা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বা জরুরি। ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতি অনুযায়ী বীজ ৮-১০ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখলে অঙ্কুরোদগম ভালো হয়। ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতিতে প্রতি বিঘা জমিতে ২-৩ কেজি বীজ যথেষ্ট। ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা এখন ড্রিল মেশিন বা সিড ড্রিলের মাধ্যমে সহজেই বীজ বপন করতে পারেন। ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বীজ বপনের সময় তাপমাত্রা ২৫-৩০° সেলসিয়াস থাকা ভালো। মনে রাখবেন আদর্শ তাপমাত্রা ভালো ফলন এবং গাছের ভালো স্বাস্থ্য।ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতি সঠিকভাবে করলে ৬-৮ দিনের মধ্যে চারা গজায়। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে দুই চার দিন দেরি হতে পারে। ভুট্টা বীজ বপন পদ্ধতি অনুসরণ করে অতিরিক্ত চারা ১৫-২০ দিন বয়সে তুলে ফেলে গাছের দূরত্ব ঠিক করে নিতে হবে।
এবার ভালোভাবে দেখে নিন ভুট্টা চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতি – মনে রাখবেন সঠিক মাত্রায় সার মানে অধিক ফলন
ভুট্টা চাষে সঠিক এবং পরিকল্পনামাফিক সার প্রয়োগ পদ্ধতি মেনে চললে ভুট্টার ফলন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। ভুট্টা চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতির প্রথম নিয়ম হল জমির মাটি পরীক্ষা করে সারের পরিমাণ নির্ধারণ করা। ভুট্টা চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি হেক্টরে গড়ে ২০০-২৫০ কেজি ইউরিয়া, ১৫০-২০০ কেজি ডিএপি, ১০০-১৫০ কেজি এমওপি এবং ১৫-২০ কেজি জিংক সালফেট প্রয়োজন। ভুট্টা চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতি মেনে জমি তৈরির সময় সবগুলো ডিএপি, এমওপি ও জিংক সালফেট প্রয়োগ করতে হবে। ভুট্টা চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতিতে ইউরিয়া তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে – বীজ বপনের ২০-২৫ দিনে ৩০%, ফুল আসার সময় (৫৫-৬০ দিনে) ৪০% ও দানা ভরার সময় (৭৫-৮০ দিনে) ৩০%।
ভুট্টা চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতিতে গোবর বা কম্পোস্ট সার ব্যবহার করলে মাটির উর্বরতা বাড়ে। প্রতি হেক্টরে ৫-৬ টন গোবর সার জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। ভুট্টা চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে ফার্টিগেশন (সার ও সেচ একসাথে) করলে সার সাশ্রয় হয় ৩০-৪০%। ভুট্টা চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার না করা – এতে গাছ লম্বা হয় কিন্তু দানা কম হয়। ভুট্টা চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতি মেনে ২৫-৩০ দিন বয়সে গাছের গোড়ায় হালকা মাটি তুলে দিয়ে সার প্রয়োগ করতে হবে। ভুট্টা চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতি সঠিকভাবে করলে দানা ভারী ও চকচকে হয়। ভারত ও বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা কেন্দ্রগুলি ভুট্টা চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। স্থানীয় কিছু কৃষি অধিকর্তার সঙ্গে বা সরকারি কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন প্রয়োজনে ফোন নাম্বার নিয়ে নিন।
হাইব্রিড ভুট্টা বীজ – গুণগত মান যাচাইয়ের কৌশল জেনে নিন।
হাইব্রিড ভুট্টা বীজ নির্বাচন চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাইব্রিড ভুট্টা বীজ কেনার সময় সার্টিফাইড ও গুণগত মান যাচাই করে কিনতে হবে। হাইব্রিড ভুট্টা বীজ সাধারনত ৯৫% এর বেশি অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা সম্পন্ন হয়। হাইব্রিড ভুট্টা বীজ প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও অঙ্কুরোদগম হার উল্লেখ থাকে। হাইব্রিড ভুট্টা বীজ সংরক্ষণ করার সময় শুকনা ও পোকামুক্ত পাত্রে রাখতে হবে। হাইব্রিড ভুট্টা বীজ সাধারনত ২-৩ বছরের বেশি সংরক্ষণ করা উচিত নয় কারণ অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কমে যায়।
হাইব্রিড ভুট্টার নামের তালিকা
হাইব্রিড ভুট্টা বীজ বাজারে বিভিন্ন নামে পাওয়া যায় – পাইওনিয়ার, বিএআরআই হাইব্রিড ভুট্টা-১, বিএআরআই হাইব্রিড ভুট্টা-২, চিত্রাবতী, মোহর, ৯৮১, প্যাসিফিক ৯৮৯ ইত্যাদি। হাইব্রিড ভুট্টা বীজ সাধারণ স্থানীয় বীজের চেয়ে দামি (ভারতে ৩৫০-৫০০ টাকা/কেজি, বাংলাদেশে ৬০০-৮০০ টাকা/কেজি), কিন্তু ফলন দেয় দ্বিগুণ। হাইব্রিড ভুট্টা বীজ কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে বীজ যেন ছত্রাক বা পোকায় আক্রান্ত না হয়। হাইব্রিড ভুট্টা বীজ বপনের আগে ট্রাইকোডার্মা বা ভিটাভেক্স দিয়ে শোধন করে নিলে রোগ প্রতিরোধ হয়। হাইব্রিড ভুট্টা বীজ ব্যবহার করলে একই জমিতে বারবার চাষ না করে ফসলের আবর্তন করা ভালো। হাইব্রিড ভুট্টা বীজ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলির নির্দেশনা মেনে চাষ করলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায়।
ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ও ফলন এবং লাভের পরিমাণ
ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ও ফলন পরস্পর সম্পর্কিত বিষয়। সঠিক ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ও ফলন নির্ভর করে মাটির গুণাগুণ, জাত নির্বাচন, সার প্রয়োগ ও সেচ ব্যবস্থাপনার ওপর। ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ও ফলন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় হাইব্রিড জাতের ফলন স্থানীয় জাতের তুলনায় ৪০-৫০% বেশি। ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ও ফলন অনুযায়ী এক বিঘা জমিতে (ভারতে প্রায় ০.৩৩ একর, বাংলাদেশে ৫১ শতক) গড় ফলন ২৫-৩৫ মণ (৯৫০-১৩০০ কেজি)। উন্নত ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ও ফলন পাওয়ার জন্য ড্রিপ সেচ ও মালচিং ব্যবহার করলে ফলন আরও ২০-৩০% বৃদ্ধি পায়।
ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ও ফলন হিসাব করলে দেখা যায় প্রতি বিঘায় খরচ ১২,০০০-১৫,০০০ টাকা (ভারতীয় ১০,০০০-১২,০০০ টাকা) এবং আয় ২৫,০০০-৩০,০০০ টাকা (ভারতীয় ২০,০০০-২৫,০০০ টাকা) হলে নিট লাভ ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা (ভারতীয় ৮,০০০-১২,০০০ টাকা)। ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ও ফলন নির্ধারণে শীতকালীন মৌসুম সবচেয়ে ভালো (অক্টোবর-নভেম্বর বপন করলে ফেব্রুয়ারি-মার্চে অথবা তারপরে বীজের ধরন অনুযায়ী ফসল)। ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ও ফলন উন্নত করতে ব্যবহার করুন উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড বীজ, সময়মতো সার ও সেচ, এবং রোগ-পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ। ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ও ফলন বাড়ানোর জন্য সরকারি কৃষি কেন্দ্র থেকে কৃষকরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।
সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতি
সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে কারণ দুগ্ধ খামারিরা সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ করে গবাদি পশুর পুষ্টিকর খাদ্য তৈরি করছেন। সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতি সাধারণ ভুট্টা চাষ থেকে কিছুটা ভিন্ন। সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতিতে গাছের উচ্চতা বেশি হয় (৮-১০ ফুট) এবং গাছের কাণ্ড মোটা হয়। সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতিতে বীজ বপনের ঘনত্ব বেশি হয় – সারি থেকে সারি ৬০-৭০ সেমি ও গাছ থেকে গাছ ১৫-২০ সেমি। সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতিতে সার প্রয়োগও বেশি হয় – প্রতি হেক্টরে ইউরিয়া ২৫০-৩০০ কেজি, ডিএপি ২০০ কেজি ও এমওপি ১৫০ কেজি।
সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতিতে ফসল সংগ্রহের সময় সাধারণ ভুট্টার চেয়ে ভিন্ন। সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতি অনুযায়ী দানায় দুধ ভরার সময় (ডগ কাঁচা অবস্থায়) যখন গাছ ৭০-৭৫% আর্দ্রতা থাকে তখন ফসল সংগ্রহ করতে হবে। সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতিতে গাছ পুরো কেটে ছোট ছোট টুকরো করে পলিথিন বা ড্রামে ভরে সংরক্ষণ করা হয়। সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে দুগ্ধ খামারিরা বছরে ২-৩ বার চাষ করতে পারেন। সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতিতে পাইওনিয়ার ৩৩৫৫, বিএআরআই হাইব্রিড ভুট্টা-৩ ইত্যাদি জাত ভালো। সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতির গাছের ওজন সাধারণ ভুট্টার চেয়ে ৪০-৫০% বেশি হয়, ফলে লাভও বেশি হয়। ভারত ও বাংলাদেশের দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ পদ্ধতি নিয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
part of Information source and video credit : Agro Advertising
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
হাইব্রিড ভুট্টার জীবনকাল কত দিন?
হাইব্রিড ভুট্টার জীবনকাল জাতভেদে ১০০-১৪০ দিন হয়ে থাকে। পাইওনিয়ার ৩৩৫৫ জাতের জীবনকাল ১৪০-১৬০ দিন, বিএআরআই হাইব্রিড ভুট্টা-১ ও -২ এর ১৩০-১৪৫ দিন। শীতকালীন জাতের জীবনকাল গ্রীষ্মকালীন জাতের তুলনায় কিছু বেশি হয়।
হাইব্রিড ভুট্টা রোপনের দূরত্ব কত হয়?
হাইব্রিড ভুট্টা রোপনের দূরত্ব সারি থেকে সারি ৬০-৭৫ সেমি এবং গাছ থেকে গাছ ২০-২৫ সেমি হওয়া উচিত। সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষে গাছ থেকে গাছ দূরত্ব ১৫-২০ সেমি রাখতে হয়। সঠিক দূরত্ব বজায় রাখলে গাছ পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস পায় এবং ফলন ভালো হয়।
ভুট্টা কত দিনে গজায়?
ভুট্টা বীজ বপনের ৬-৮ দিনের মধ্যে গজায় (অঙ্কুরিত হয়)। তাপমাত্রা ২৫-৩০° সেলসিয়াস হলে অঙ্কুরোদগম দ্রুত হয়। বীজ বপনের আগে ৮-১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে ৫-৬ দিনেও গজাতে পারে। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ১০-১২ দিন লাগতে পারে।
ভুট্টা চাষের সেরা সময় কোনটি?
ভুট্টা চাষের সেরা সময় অক্টোবর-নভেম্বর (শীতকালীন ফসল)। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন ফসলের জন্য ফেব্রুয়ারি-মার্চ এবং বর্ষাকালীন ফসলের জন্য জুন-জুলাই মাসেও ভুট্টা চাষ করা যায়। তবে শীতকালীন ভুট্টার ফলন সবচেয়ে বেশি হয়। পশ্চিমবঙ্গের ফলন সবচাইতে বেশি হয়।
এক বিঘা জমিতে হাইব্রিড ভুট্টা চাষে খরচ কত?
এক বিঘা (বাংলাদেশে ৫১ শতক, ভারতে প্রায় ০.৩৩ একর) জমিতে হাইব্রিড ভুট্টা চাষে বাংলাদেশে ১২,০০০-১৫,০০০ টাকা এবং ভারতে ১০,০০০-১২,০০০ টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচ অন্তর্ভুক্ত।
হাইব্রিড ভুট্টার প্রতি বিঘা ফলন কত হয়?
হাইব্রিড ভুট্টার এক বিঘায় ফলন ২৫-৩৫ মণ (৯৫০-১৩০০ কেজি)। উন্নত ব্যবস্থাপনায় ৪০-৪৫ মণ (১৫০০-১৭০০ কেজি) পর্যন্ত ফলন সম্ভব। সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষে গাছের ওজন ৩৫০০-৪৫০০ কেজি পর্যন্ত হয়।
ভুট্টা চাষে কতবার সেচ দিতে হয়?
ভুট্টা চাষে সাধারণত ৩-৪ বার সেচ দিতে হয় – বীজ বপনের ২৫-৩০ দিনে (গাছ বাড়ার সময়), ৫৫-৬০ দিনে (ফুল আসার সময়), ৭৫-৮০ দিনে (দানা ভরার সময়) এবং প্রয়োজন হলে আরও একবার। ড্রিপ সেচ ব্যবহার করলে ৭-১০ দিন পর পর সেচ দিতে হয়।
ভুট্টার পাতা হলুদ হয়ে গেলে কী করবেন?
ভুট্টার পাতা হলুদ হলে সাধারণত নাইট্রোজেন বা জিংকের অভাব হয়। দ্রুত ইউরিয়া (প্রতি লিটার পানিতে ১০ গ্রাম) বা জিংক সালফেট (প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম) স্প্রে করুন। এছাড়া জলের অভাব বা জল জমেও পাতা হলুদ হতে পারে, তাই সেচ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা পরীক্ষা করুন।
ভুট্টা চাষে সরকারি ভর্তুকি পাওয়া যায় কি?
ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই ভুট্টা চাষে সরকারি ভর্তুকি ও সহায়তা রয়েছে। ভারতের NABARD ও রাজ্য কৃষি দফতর থেকে বীজ, সার, ড্রিপ সেচ ও প্রশিক্ষণে ভর্তুকি দেওয়া হয়। বাংলাদেশের উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হয়।
সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষের সুবিধা কী কী?
সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষের সুবিধা হলো – (১) গবাদি পশুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য তৈরি হয়, (২) সাধারণ ভুট্টার চেয়ে গাছের ওজন ৪০-৫০% বেশি, (৩) বছর জুড়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়, (৪) দুধ উৎপাদন ১৫-২০% বাড়ে, (৫) কম খরচে বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়।